এম, এ কাশেম,
বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
দীর্ঘ বছরের পর বছর আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অবৈধ দাম্ভিকতা, অত্যাচার, নির্যাতন-নীপিড়নের শিকার বিএনপি ও এর অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীরা এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের আনন্দ উচ্ছাস অতিতের রেকর্ড ভঙ্গ করা মিছিল-শ্লোগানে পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা ঘটিয়ে গতকাল বাংলাদেশের তথাকথিত প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার আকস্মিক ভারতে পলায়নের পর।
দীর্ঘ বছরের পর বছর অবৈধ ভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখে জুলুম নির্যাতন চালিয়ে বিরোধী মত দমন করে এক নায়ক তান্ত্রিক ভাবে দেশ পরিচালনা করে মানুষের জান-মাল সহ প্রায় সব কিছু কেড়ে নিয়ে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো সর্ব শ্রেণী পেশার মানুষ কে। দীর্ঘদিন মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের কবল মুক্তি পেতে আন্দোলন সহ নানা বিধ: ভাবে চেষ্টা করে ও তাদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী-ক্যাড়ার ও তাদের পোষ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেনি। একের পর এক মুক্তি কামী জনতার ওপর তারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে প্রাণ সংহার চালিয়ে তৃপ্তি লাভের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছিলো। এমন সময় কতো মা-বাবার বুক যে খালি করে দিয়েছে তার হিসাব মিলানো ও দায়।
এমনিতরো পরিস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্ররা ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করলে তাদের ওপর আওয়ামী পেটোয়া বাহিনী ও তাদের আজ্ঞাবহ পুলিশ বাহিনী দিয়ে একের পর এক লাশ ফেলে তারা তাদের আনন্দের ষোল কলা পূর্ন করে দিব্যি রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলো তখন আন্দোলন রত: সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে একাত্ম হয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মীরা। তাদের সাথে যোগ দেন দেশের সর্ব শ্রেণী ও পেশার মানুষ সহ সাধারণ জনগণ।
অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল আকস্মিক ভাবে নিজ দলীয় নেতা-কর্মী সহ দেশ এবং মানুষের কথা চিন্তা না করে দেশ ছেড়ে ভারতে পলায়ন করার পর পরই সারা দেশের মানুষের মতো চট্টগ্রামের মানুষজন বাসা/বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসে আনন্দ- উচ্ছাস এর বাঁধভাঙা জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেন।
এমন আনন্দ- উল্লাস বিগত ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার পর ও দেখা যায়নি যাহা দেখা গেছে শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর।
চট্টগ্রাম শহর ছাড়া ও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং গ্রাম, পাড়া-মহলায় মিছিলের মিছিল বের করে আনন্দ উদযাপন করতে দেখা যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়া ও সাধারণ মানুষ কে। কোনো কোনো মিছিলে নারীদের উপস্থিতি ও লক্ষ্যনীয় ঠেকে ছিলো। সব চেয়ে মজার বিষয় হিসেবে চিহ্নিত অনেক মহিলা তাদের দুধের বাচ্চা নিয়ে মিছিলে অংশ নেয়ার দৃশ্য। এ ছাড়া ছোটো ছোটো শিশুদের কে মিছিলে দেখা যায়।
এ ক কথায় মানুষ যে কোনো কিছুর ওপর অতিষ্ঠ হয়ে ওঠার সীমা অতিক্রম করলে যে অবস্থা হয় ঠিক সেই রকম-ই দেখা যায় পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যাওয়া শহর-নগর সহ সর্বোত্র।
ধর্য্যহারা মানুষ জন কোথাও কোথাও বিভিন্ন জিনিস ভাংচুর করেছে মর্মে ও খবর পাওয়া যায়।
দেশের অতি ব্যস্ততম: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিলো সুনসান নিরবতা। কোনো ধরনের গাড়ি চলাচল ছিলো না। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ হীন অন্ধকার যেনো খানিকটা ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি করে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহা সড়কের কোলঘেঁষা বিভিন্ন বাজার গুলোতে মাইক ব্যবহার করে নের্তৃত্বস্থানীয়রা বক্তব্য রাখতে ও দেখা যায়।
দেশের প্রধান বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার মীরসরাই উপজেলার ধুমঘাট ব্রীজ পার হয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারে বিএনপি’র পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আনন্দ মিছিল বের করা হয় এবং মাইক লাগিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এখানে বক্তব্য রাখেন- বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কে হারিয়ে জয়লাভ করা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা/উপজেলার দায়িত্ব পালন করা বিএনপি নেতা নুরুল আমিন, মীরসরাই উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপি’র আহবায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী সহ অপরাপর নের্তৃবৃন্দ।