এম, এ কাশেম
বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
কোটাবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট সহ অভ্যন্তরীণ রুটে আটকা পড়েছিলো ১০টি ট্রেন । স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামীদের পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয়েছে গন্তব্যেস্থলে এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাদের কে।
সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের রেলপথ ও সড়ক পথ অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম–ঢাকা, চট্টগ্রাম–সিলেট, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সহ অভ্যন্তরীণ রুটে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১০টি ট্রেন আটকা পড়েছিলো। প্রায় ৮টা ঘন্টা চট্টগ্রামের সাথে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় এসব ট্রেনের হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়ে। এতে ১০টি ট্রেনের সূচিতে ‘বিপর্যয়’ দেখা দেয়।
গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ানহাট এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন আন্দোলনরত: শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পর তারা দেওয়ানহাট এলাকায় সড়ক পথ ও অবরোধ করেন। অবরোধ চলাকালে নগরীর টাইগারপাস থেকে আগ্রাবাদ সড়ক, অপরদিকে লালখান বাজার সড়ক, টাইগারপাস আমবাগান সড়ক, টাইগারপাস স্টেশন রোড়–নিউমার্কেট সড়ক সহ বিশাল এলাকা জুড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষদের। এতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও কক্সবাজার এবং নাজিরহাটগামী ১০টি ট্রেন আটকা পড়ে।
এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে চড়ে দেওয়ান হাটে আসেন চবির শিক্ষার্থীরা। ট্রেন থেকে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যে ট্রেনে করে এসেছেন–সেই ট্রেনটি আটকে দেন। পরে পুলিশ প্রহরায় ট্রেনটি চট্টগ্রাম স্টেশন চলে যায়। এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় দুপুর পর্যন্ত সড়ক পথ অবরোধ করেননি শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১টা ১০মিনিটে নগরের টাইগারপাস মোড়ে সড়ক অবরোধের মধ্যে দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর ফলে নগরের ব্যস্ততম সড়ক টাইগারপাস দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেকে বাধ্য হয়ে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেন। কেউবা পায়ে হেঁটেই কয়েক কিলোমিটার পাড়ি দেন। সন্ধা সাতটায় শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গতকাল বেলা ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এবং দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেয়ায় কোনো ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ছেড়ে যেতে বা স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেনি। তবে শিক্ষার্থীরা লাইন থেকে অবরোধ তুলে চলে যাওয়ায় সন্ধ্যা থেকে বিলম্ব সূচির ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছাড়তে শুরু করে।
এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদের কোটা বিরোধী অবরোধে আজকে (গতকাল বুধবার) সকাল ১০টার পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত (সন্ধ্যা পৌনে ৭টা) চট্টগ্রাম–ঢাকা–চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম–সিলেট–চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর, নাজিরহাট রুটের ১০টি ট্রেন আটকা ছিল। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামে কোনো ট্রেন আসতে পারেনি এবং ছেড়ে যেতেও পারেনি। কক্সবাজার এক্সপ্রেস, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, মহানগর গোধুলী, সোনার বাংলা, চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস, নাজিরহাটগামী লোকাল ট্রেনসহ ১০টি ট্রেন আটকে ছিল। আন্দোলনকারীরা রেললাইন থেকে সরে যাওয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে আমরা আস্তে আস্তে ট্রেন গুলো চালাতে শুরু করি। তিনি বলেন, প্রথমে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়া হয় এবং এর পরপরই কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ঢাকা থেকে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস। এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকাগামী সোনার বাংলা, গোধূলী, মহানগর ও চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেসসহ সব ট্রেন ছাড়া হয় আস্তে আস্তে।
ব্মাদের চবি প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে গতকাল বুধবার চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষিত তরুণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা থেকে সারা দেশ প্রায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়ক ও রেলপথে বিভিন্ন গন্তব্যের রুটে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সরকারি চাকরির সব গ্রেডে সকল প্রকার কোটা বাতিল করে সংবিধানে থাকা অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম মাত্রায় এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের এক দফা দাবিতে সারা দেশের মত চট্টগ্রামেও সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা।
‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ ব্যানারে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে সারা দেশের মত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামেও আন্দোলন চলছে।
বেলা ১১টা থেকে দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে রেললাইনে এবং টাইগার পাস মোড়ে অবস্থান নেন চবি শিক্ষাথীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীরা। তারা রেললাইনের ওপর বসে বিভিন্ন স্লোগান দেন। দিনভর সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা দেওয়ানহাট ব্রিজএবং টাইগার পাস থেকে সরে মিছিল নিয়ে নগরীর নিউ মার্কেটের দিকে চলে যায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা এ আন্দোলনে যোগ দেন। সরকারি চাকরিতে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রাখার দাবি জানান তারা। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, মেধাবীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। কোটা বৈষম্যের কারণে মেধাবীদের জন্য সকল রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমরা মেধাবী দ্বারা পরিচালিত একটি স্মার্ট বাংলাদেশ দেখতে চাই।
আন্দোলনরত: শিক্ষার্থীরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বাদে অন্য কোনো কোটা রাখা উচিত না। সব মিলিয়ে কোটা ৫ শতাংশ রাখা উচিত।
উচ্চ আদালত আজকে যে রায় দিয়েছেন, সেটির প্রতি তারা সম্মান জানান, কিন্তু, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা পথ থেকে যাবেন না বলেন।