(কিশোরগঞ্জ) হোসেনপুর প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি মওসুমে লাউসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজির ব্যাপক চাষ করেছেন কৃষকেরা। এবার শুধুমাত্র লাউ চাষ করে সারা উপজেলায় এক হাজারের বেশি কৃষক স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই আজ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মওসুমে লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির বাম্পার ফলন হওয়ায় স্থানীয় কৃষকেরাও এবার মহাখুশি। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার ব্রহ্মপুত্র ও নরসুন্দার চরাঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় গত কয়েক বছর ধরে শাক সবজির আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে সবজি চাষে খেটে খাওয়া মানুষের ব্যাপক আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন হয়েছে।লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার স্বল্প আয়ের অনেক কৃষক পরিবার আজ স্বাবলম্বী।
উপজেলার সাহেবেরচর গ্রামের কৃষক মোঃ আল-আমিন, সাইফুল ইসলাম, চর জিনারী গ্রামের কৃষক নবী হোসেন, কৃষক রুস্তম আলীসহ অনেকেই জানান, বিগত সময়ে চরাঞ্চলের কৃষকেরা বালুমিশ্রিত জমিতে মিষ্টি আলু, মাষকলাই ও বাদাম ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদনের চিন্তাও করতেন না। বর্তমানে সেচ সুবিধাসহ বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকায় লাউ, কপি,মূলা ও কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে প্রতিটি কৃষকই তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তাই হোসেনপুরের সর্বত্রই এখন অর্থকরী ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন মওসুমি সবজি ব্যবসায়িরা। প্রসঙ্গত উপজেলার কাওনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম, পুমদি গ্রামের জামির হোসেনসহ অনেকেই জানান, পরিশ্রম করে এখানকার কৃষকেরা সবজি উৎপাদন করলেও লাভের বেশির ভাগ অংশ চলে যায় ফড়িয়াদের পকেটে। কারণ হিসেবে তারা বলেন, সবজি সংরক্ষণের জন্য হোসেনপুরে কোনো হিমাগার না থাকায় ক্ষেত থেকে সবজি তোলার পরপরই কৃষকেরা পচনের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে কিছুটা কম মূল্যে ফরিয়াদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন।
উপজেলার চর হাজীপুর গ্রামের কৃষক মোঃ আব্দুল জলিল ও চর জামাইল গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে । তবে এ বছর লাউসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই তা বিক্রি করে আয় করেছেন লাখ টাকার বেশি। এছাড়াও উপজেলার রহিমপুর গ্রামের কৃষক শামসুল ইসলাম, চর হাজীপুর গ্রামের জসিম উদ্দীন, দাপুনিয়ার ফারুক আহমেদ, উত্তর গোবিন্দপুরের ফরহাদ হোসেনসহ শতাধিক কৃষক সবজি চাষে লাখপতি হওয়ার দাবি করেছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই অন্য ফসল বাদ দিয়ে লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ঝুঁকেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবির ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান,এ বছর অনুকূল আবহাওয়ায় হোসেনপুর উপজেলার সর্বত্রই লাউ, শীম,মুলা, কপি, বেগুন,আলুসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে হিমাগারের অভাব ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের কার্যকরি উপায় না থাকায় স্থানীয় কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত সবজির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভুক্তভোগীরাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করে তারাও হোসেনপুরে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।